বাংলা ব্যাকরণে যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয় সেগুলোকে বলক বলে। 'থেকে' শব্দের সঙ্গে 'ই' যুক্ত হয়ে বক্তব্যকে জোর প্রদান করেছে তাই 'ই' হলো বলক।
আহমদ শরীফের গবেষণা অনুসারে মধ্যযুগে চণ্ডীদাস নামে তিনজন কবি ছিলেন: অনন্ত বড়ু চণ্ডীদাস চণ্ডীদাস এবং দীন চণ্ডীদাস।
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত (১৮১২-১৮৫৯) মধুসূদন দত্তের (১৮২৪-১৮৭৩) পূর্ববর্তী গুরুত্বপূর্ণ কবি। তিনি বাংলা সাহিত্যে যুগসন্ধির কবি হিসেবে পরিচিত।
'পরিকর' শব্দের আক্ষরিক অর্থ কোমর বা কটিবন্ধ। 'বদ্ধ পরিকর' বাগধারার আক্ষরিক অর্থ 'কোমর বাঁধা' যা রূপক অর্থে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা বোঝায়।
'শিক্ষক' এবং 'শিক্ষার্থী' জাতিবাচক বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। প্রেক্ষাপট অনুযায়ী এগুলো একবচন ও বহুবচন উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হতে পারে।
নেতিবাচক বাক্যকে অস্তিবাচকে রূপান্তর করতে 'না' বাদ দিয়ে বিপরীত শব্দ ব্যবহার করতে হয়। এখানে 'ঘুমাতে পারলেন না' এর পরিবর্তে 'জেগে রইলেন' ব্যবহার করা হয়েছে।
'সংগীত' থেকে 'গীতিকা' কোনো ধ্বনি পরিবর্তনের নিয়মে হয়নি। 'গীতিকা' শব্দটি 'গীত' শব্দের সাথে 'ইকা' প্রত্যয় যোগে গঠিত। বাকিগুলো ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ।
কাজী নজরুল ইসলামের 'কুহেলিকা' (১৯৩১) উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র জাহাঙ্গীর। তিনি একজন শিক্ষিত দেশপ্রেমিক ও বিপ্লবী চরিত্র।
'উৎক্ষেপণ' শব্দের অর্থ উপরের দিকে নিক্ষেপ করা। এখানে 'উৎ' উপসর্গটি 'ঊর্ধ্ব' বা 'উপরের দিকে' অর্থ প্রকাশ করছে।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিবৃত 'অ্যা' উচ্চারণ বোঝাতে এ-কারের ওপর মাত্রা ব্যবহার করতেন। স্বাভাবিক 'এ' উচ্চারণের জন্য মাত্রাহীন এ-কার রাখতেন।
'ডাক্তারখানা' শব্দটি 'ডাক্তার' শব্দের সাথে ফারসি তদ্ধিত প্রত্যয় 'খানা' যুক্ত হয়ে গঠিত। 'হাসপাতাল' ইংরেজি শব্দ এবং 'আকাশছোঁয়া' সমাসবদ্ধ পদ।
'চায়না' বানান ভুল সঠিক হবে 'চায় না'। এবং 'অনেক ব্যক্তিরাই' অংশে বচনজনিত ভুল আছে। 'অনেক' বহুবচন নির্দেশক তাই 'রা' বিভক্তি বাহুল্য দোষ। সঠিক হবে 'অনেক ব্যক্তিই'।
পরিভাষিক শব্দ হলো এমন শব্দ যা কোনো নির্দিষ্ট শাস্ত্র বিজ্ঞান বা পেশার ক্ষেত্রে একটি সুনির্দিষ্ট ও বিশেষ অর্থ বহন করে।
'মৃগয়া' (শিকার) শব্দে 'মৃগ' বলতে ব্যাপকভাবে 'পশু' বা বন্যপ্রাণী বোঝানো হয়। প্রাচীন সংস্কৃতে মৃগ অর্থ ছিল পশু।
'নীরব' শব্দের সন্ধিবিচ্ছেদ হলো নিঃ + রব। এটি বিসর্গ সন্ধির নিয়মে গঠিত। উজ্জ্বল ব্যঞ্জনসন্ধি মানোত্তীর্ণ স্বরসন্ধি এবং সংগ্রাম ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ।
ভাষার ক্ষুদ্রতম অর্থপূর্ণ একককে রূপমূল (Morpheme) বলে। ধ্বনি বা বর্ণ অর্থহীন কিন্তু রূপমূল অর্থ প্রকাশ করে বা ব্যাকরণিক ভূমিকা পালন করে।
ধ্বনি হলো ভাষার শ্রুতিগ্রাহ্য রূপ (কানে শোনা যায়) আর বর্ণ হলো ধ্বনির দৃষ্টিগ্রাহ্য বা লিখিত রূপ (চোখে দেখা যায়)। তাই এদের মূল পার্থক্য ইন্দ্রিয় গ্রাহ্যতায়।
প্রবোধচন্দ্র বাগচী তিব্বতি অনুবাদ আবিষ্কার করেন এবং পরবর্তীতে ড. সুকুমার সেন তিব্বতি অনুবাদের ওপর ভিত্তি করে চর্যাপদের লুপ্ত পদগুলো প্রাচীন বাংলায় রূপান্তর করেন।
'স্বাধীন' একটি ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস। এর ব্যাসবাক্য হলো 'স্ব-এর অধীন'। এখানে 'স্ব' অর্থ নিজ অর্থাৎ যে নিজের অধীন।
'হরফের ছড়া' (১৯৭০) ফররুখ আহমদের লেখা একটি শিশুতোষ গ্রন্থ। 'বর্ণপরিচয়' ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের লেখা।