'সাত সাগরের মাঝি' (১৯৪৪) কবি ফররুখ আহমদের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ এবং শ্রেষ্ঠ রচনা হিসেবে পরিচিত। এই কাব্যের মাধ্যমে তিনি বাংলা সাহিত্যে ইসলামী রেনেসাঁর অন্যতম কবি হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন।
'কৌমুদী' শব্দের অর্থ চাঁদের আলো বা জ্যোৎস্না। কুমুদ বা শাপলা ফুল চাঁদের আলোতে ফোটে বলে 'যে আলোতে কুমুদ ফোটে' তার এককথায় প্রকাশ 'কৌমুদী'।
দুটি স্বরধ্বনি একসাথে যুক্ত হয়ে উচ্চারিত হলে তাকে দ্বিস্বর বলে। 'লাউ' শব্দে 'আ' এবং 'উ' মিলে একটি দ্বিস্বরধ্বনি তৈরি করেছে।
'ডাক্তার' শব্দের সাথে ফারসি প্রত্যয় 'খানা' যুক্ত হয়ে 'ডাক্তারখানা' শব্দটি গঠিত হয়েছে। 'অনুগমন'-এ উপসর্গ এবং 'দিলখোলা' সমাসবদ্ধ পদ।
'কথা না বলা' এবং 'চুপ করে থাকা' একই অর্থ প্রকাশ করে। নেতিবাচক বাক্যটিকে অর্থ পরিবর্তন না করে অস্তিবাচক রূপ দিলে হয় 'তিনি চুপ করে থাকলেন।'
'অন্তর্ভুক্তিমূলক' শব্দটি উচ্চারণে ৬টি অক্ষরে বিভক্ত হয়: অন-তর্-ভুক্-তি-মূ-লক্।
'সারা' এবং 'ব্যাপী' একসাথে ব্যবহার করলে বাহুল্য দোষ ঘটে। শুদ্ধ প্রয়োগ হলো 'সারা দেশে' বা 'দেশব্যাপী' এবং বানান 'উদ্যাপন' সঠিক।
বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের মুসলমান কবি শাহ মুহম্মদ সগীর পঞ্চদশ শতকে 'ইউসুফ-জোলেখা' প্রণয়কাব্য রচনা করেন। গবেষকদের মতে তিনি চট্টগ্রামের অধিবাসী ছিলেন।
ক্রিয়াপদের যে অংশকে আর ক্ষুদ্রতর অংশে ভাগ করা যায় না এবং যা ক্রিয়ার মূল ভাব প্রকাশ করে তাকে ধাতু বা ক্রিয়ামূল (root) বলে।
'Transparency' একটি প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক পরিভাষা। এর সঠিক বাংলা পরিভাষা হলো 'স্বচ্ছতা' যা কোনো কাজ বা প্রক্রিয়ার স্পষ্টতা ও উন্মুক্ততাকে বোঝায়।
'আফতাব' একটি ফারসি শব্দ যার অর্থ সূর্য। 'অর্ক' তৎসম শব্দ যার অর্থও সূর্য। অর্ণব ও জলধি অর্থ সমুদ্র এবং রাতুল অর্থ রক্তবর্ণ।
কারক ক্রিয়াপদের সঙ্গে নামপদের সম্পর্ক নির্দেশ করে। বাক্যের অন্তর্গত পদসমূহের পারস্পরিক সম্পর্ক আলোচনার ক্ষেত্রে প্রদত্ত বিকল্পগুলোর মধ্যে 'কারক' সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক।
অনুভূতিজাত দ্বিরুক্ত শব্দ কোনো মানসিক অবস্থা বা অনুভূতি প্রকাশ করে। 'ছমছম' শব্দটি ভয় বা গা শিরশির করার অনুভূতি বোঝায়। 'ঝমঝম' ও 'টিকটিক' হলো ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্ত শব্দ।
এই বিখ্যাত পঙক্তিটি কাজী নজরুল ইসলামের 'আমার কৈফিয়ৎ' কবিতা থেকে নেওয়া। কবিতায় তিনি সমসাময়িক সামাজিক ও রাজনৈতিক অবিচারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
অব্যয়ীভাব সমাসে পূর্বপদে অব্যয় বা উপসর্গ বসে এবং তার অর্থই প্রাধান্য পায়। যেমন 'উপকূল' (কূলের সমীপে) এ 'উপ' একটি উপসর্গ। এই গঠন প্রক্রিয়া উপসর্গের কার্যকারিতার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
যে পদ অন্য পদের গুণ দোষ অবস্থা ইত্যাদি প্রকাশ করে তাকে বিশেষণ পদ বলে। 'সৎ' শব্দটি বিশেষ্যের গুণ প্রকাশ করে তাই এটি বিশেষণ। একতা দর্শন ও জনতা হলো বিশেষ্য পদ।
বাংলা ছন্দের তিনটি রীতির মধ্যে স্বরবৃত্ত ছন্দ মূলত ছড়ার ছন্দ হিসেবে পরিচিত। এর প্রধান বৈশিষ্ট্য দ্রুত লয় প্রতি পর্বে ৪ মাত্রা এবং শ্বাসাঘাতের প্রাধান্য।
ইসমাইল হোসেন সিরাজীর 'অনল-প্রবাহ' (১৯০০) কাব্যগ্রন্থে ব্রিটিশ বিরোধী অগ্নিঝরা কবিতা থাকার কারণে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার এটি বাজেয়াপ্ত করে।
বড়ু চণ্ডীদাস রচিত 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যটি বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। এর মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে যার প্রথম খণ্ডের নাম 'জন্মখণ্ড'।