রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতিই একাধারে রাষ্ট্রের প্রধান এবং সরকারের প্রধান নির্বাহী হিসেবে সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হন।
যুক্তরাজ্য (পার্লামেন্ট) এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (কংগ্রেস)-এ দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা রয়েছে, পক্ষান্তরে বাংলাদেশে এককক্ষবিশিষ্ট আইনসভা বিদ্যমান।
সরকারের তিনটি বিভাগের মধ্যে আইনসভার প্রধান ও মৌলিক কাজ হলো দেশের জন্য নতুন আইন প্রণয়ন করা এবং পুরোনো আইনের সংশোধন করা।
জাতীয়তাবোধ বা মানসিক ঐক্যবোধের সুদৃঢ় ভিত্তির ওপরই পরবর্তী সময়ে স্বাধীন ও সার্বভৌম 'জাতি' গঠিত হয়।
প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক প্লেটো খ্রিষ্টপূর্ব quarto শতকে তাঁর বিখ্যাত কাল্পনিক আদর্শ রাষ্ট্রের রূপরেখা দিয়ে 'রিপাবলিক' গ্রন্থটি রচনা করেন।
দেশকে ভালোবাসা এবং দেশের মানুষকে ভালোবেসে তাদের কল্যাণে কাজ করাই হলো দেশপ্রেমের মূল কথা; বিপদে পাশে না থাকা এর পরিপন্থী।
ল্যাটিন শব্দ 'Civis' মানে নাগরিক এবং 'Civitas' শব্দের আক্ষরিক অর্থ হলো নগররাষ্ট্র (City-State)।
পৌরনীতি ও সুশাসনের জ্ঞান নাগরিকদের তাদের অধিকার, কর্তব্য ও রাষ্ট্রের কাঠামো সম্পর্কে সচেতন করে সুনাگরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করে।
কর প্রদান করা নাগরিকের অন্যতম প্রধান আইনি কর্তব্য এবং পরার্থপরতা একটি সামাজিক মূল্যবোধ, যার সঠিক শিক্ষা পৌরনীতি ও সুশাসন দিয়ে থাকে।
সরকারের তিনটি অঙ্গ বা বিভাগকে সম্পূর্ণ আলাদা ও স্বাধীন রাখার রাষ্ট্রীয় নীতিকে 'ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি' (Separation of Powers) বলে।
ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নিশ্চিত হলে কোনো বিভাগ একচেটিয়া ক্ষমতা ভোগ করতে পারে না, ফলে বিচার বিভাগ স্বাধীন হয় এবং নাগরিক অধিকার সুরক্ষিত থাকে।
আইনের শাসনের অর্থ হলো আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান এবং আইন অনুযায়ী সবার জন্য সমান মর্যাদা, স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।
গণতন্ত্রে সাধারণ জনগণের মৌলিক অধিকারের সাংবিধানিক স্বীকৃতি থাকে এবং নির্বাচিত সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকে বলে একে স্বাধীনতার রক্ষাকবচ বলা হয়।
সমাজবিজ্ঞানী ও রাষ্ট্রচিন্তাবিদ আর. এম. ম্যাকাইভার (R.M. MacIver) গণতান্ত্রিক সমাজ ও আইনসভায় রাজনৈতিক দলের গুরুত্ব বোঝাতে এই উক্তিটি করেছিলেন।
যোগ্যতা ও কাজ অনুযায়ী সমমজুরি বা পারিশ্রমিক পাওয়ার নিশ্চয়তা মানুষের অন্যতম প্রধান 'অর্থনৈতিক অধিকার'।
অধিকারের বঞ্চনা ও বৈষম্যের ফলে সমাজে চরম অসন্তোষ, আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ও উৎপাদন ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।
পৌরনীতির মূল ইংরেজি শব্দ 'Civics' এসেছে ল্যাটিন শব্দ 'Civis' (নাগরিক) এবং 'Civitas' (নগররাষ্ট্র) থেকে।
কর দেওয়া এবং সৎ প্রতিনিধি নির্বাচন করা নাগরিকের পবিত্র দায়িত্ব হলেও সরাসরি দলীয় রাজনীতি করা সবার জন্য বাধ্যতামূলক বা সুশাসনের শর্ত নয়।
সুষ্টি নির্বাচন, বিকেন্দ্রীকরণ ও দায়বদ্ধতা—এই তিনটি বিষয়ই রাজনৈতিক জবাবদিহিতা ও ক্ষমতার অপব্যবহার রোধের প্রধান হাতিয়ার।
জ্ঞান, প্রজ্ঞা, যুক্তি ও বুদ্ধি দিয়ে কোনো বিষয়কে কুসংস্কারমুক্ত হয়ে বিচার করার ক্ষমতাকে 'বুদ্ধিবৃত্তিক মূল্যবোধ' (Intellectual Value) বলা হয়।