ন্যায়পরায়ণতা, সততা এবং সমাজের প্রচলিত আইন ও নিয়মকানুন মেনে চলার মানসিকতাকে 'সামাজিক মূল্যবোধ' বলা হয়।
আইনের চোখে সমতা, জীবন রক্ষা, চলাফেরা ও ব্যক্তিস্বাধীনতার মতো 'সামাজিক অধিকার' নিশ্চিত না হলে নাগরিকরা সভ্য জীবনযাপন করতে পারে না।
ভোট দেওয়া যেমন একটি রাজনৈতিক অধিকার, তেমনি সুনাগরিক হিসেবে সৎ ও যোগ্য প্রার্থী বেছে নেওয়া একটি পবিত্র 'নাগরিক কর্তব্য' (Civic Duty)।
প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটল (Aristotle) মনে করতেন আইন হলো মানবীয় আবেগ ও স্বার্থমুক্ত পরম যুক্তি ও প্রজ্ঞার এক শাশ্বত রূপ।
নাগরিকদের জন্য 'কাজের অধিকার' বা কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা প্রদান করা রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান 'অর্থনৈতিক অধিকার' ও দায়িত্ব।
গ্রিক শব্দ 'Demos' (জনগণ) এবং 'Kratos' (ক্ষমতা) মিলে 'Democracy' বা জনগণের শাসন শব্দটি তৈরি হয়েছে।
গণতন্ত্রের মূল কথাই হলো রাষ্ট্র পরিচালনায় চূড়ান্ত ক্ষমতার মালিক বা সার্বভৌম শক্তির আধার হবে দেশের 'সাধারণ জনগণ'।
একাধিক রাজনৈতিক দলের উপস্থিতি এবং অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিদের দ্বারা দেশ পরিচালনা করা 'গণতান্ত্রিক সরকার' ব্যবস্থার লক্ষণ।
কোনো প্রকার রাজনৈতিক বা শাসন বিভাগের চাপ ছাড়া আইন অনুযায়ী নিরপেক্ষ বিচার ও 'আইনের শাসন' নিশ্চিত করাই বিচার বিভাগের স্বাধীনতার মূল কথা।
সরকারের তিনটি প্রধান অঙ্গের মধ্যে 'বিচার বিভাগ' (Judiciary) সংবিধানের সর্বোচ্চ অভিভাবক ও নাগরিক অধিকারের রক্ষক হিসেবে কাজ করে।
ভোট প্রদান করা, political মতামত প্রকাশ করা এবং নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া নাগরিকদের মৌলিক 'রাজনৈতিক অধিকার'-এর অন্তর্ভুক্ত।
আইনগত বাধ্যবাধকতা না থাকলেও নিজের বিবেক ও নৈতিকতাবোধ থেকে সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেওয়া একটি উত্তম নৈতিক কর্তব্য।
গণতান্ত্রিক আইনসভায় প্রধান বিরোধী দল সরকারের কাজের গঠনমূলক সমালোচনা ও বিকল্প টিম হিসেবে একটি 'ছায়া সরকার' বা ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করে।
গণতান্ত্রিক ও নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা বা সরকার গঠনের মূল লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে 'রাজনৈতিক দল' (Political Party)।
এরিস্টটল মূলত দুটি নীতির ওপর ভিত্তি করে সরকারের শ্রেণিবিভাগ করেন: ১. শাসকের সংখ্যা এবং ২. শাসনের উদ্দেশ্য (স্বাভাবিক ও বিকৃত রূপ)।
সুনাগরিকের প্রধান তিনটি গুণ (বুদ্ধি, আত্মসংযম ও বিবেক) জাগ্রত করার জন্য দেশপ্রেম, জাতীয়তাবোধ এবং আইনের শাসন ও সুশাসন অত্যন্ত জরুরি।